নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হাওর থেকে কৃষক সেজে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতিকুল ইসলাম ওরফে কুল ইসলামকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৌশলে পালিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এরআগে গতকাল সোমবার উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের মাগনা গ্রামের হাওর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আতিকুল ইসলাম নায়েকপুর ইউনিয়নের মাগনা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
আর হত্যার শিকার কৃষক বাচ্চু মিয়া (৬০) একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ বিকালে কৃষক বাচ্চু মিয়া ধানখেতে গিয়ে দেখতে পান, কয়েকটি গরু তাঁর খেতের ধান খাচ্ছে। এ নিয়ে গরুর মালিক আতিকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। এর জেরে আতিকুল তাঁর লোকজন নিয়ে বাচ্চু মিয়ার ওপর হামলা করেন। এ সময় আতিকুল ইসলামের বাঁশের লাঠির আঘাতে বাচ্চু মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ছেলে মো. আলামিন বাদী হয়ে মদন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আতিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি আতিকুল ইসলাম কৌশলে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার তাঁর অবস্থান বাড়ির পাশের হাওরে শনাক্ত করা হয়। পরে কৃষকের ছদ্মবেশে হাওর এলাকায় গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মদন থানার পুলিশ।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম বলেন, কৃষক বাচ্চু মিয়া হত্যা মামলায় দুই তিনজন আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। আতিকুল ইসলামসহ অন্যরা পলাতক ছিলেন।
তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। গতকাল হাওর এলাকায় তার অবস্থান সনাক্ত করা হয়। পরে কৃষকের ছদ্মবেশে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। আজ মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।










