সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি, আবার কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। এদিকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ৮৩ জন। এসব শূন্য পদ পূরণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি আবেদন জমা পড়ে। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।
নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন উত্তীর্ণ হন। পরে মৌখিক পরীক্ষার জন্য তাদের নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলে ১৩ হাজার ৮৩১ জন কাগজপত্র জমা দেন। ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি এবং একজন মারা গেছেন।
কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তবে নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও সবাই কাজে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন যোগ দিলেও ৯১৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ না দেওয়া ৯১৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৪৭১ জন পদে যোগ দেননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি, আবার কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ দেননি। তাদের অনেকে হয়তো অন্য কোথাও চাকরি পেয়েছেন এবং সেটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা সাধারণত ঘটে বলেও জানান তিনি।
তবে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় শূন্য পদ পূরণে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আবদুর রহিম জানান, বড় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় ও অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।










