কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক আগামীর সময়ের প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের মা-বাবাকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকের বাবা মো. আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী শামসাদ বেগমও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

citytouch 728-X-90


ঘটনার পর গত বুধবার (৭ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে ঘটনার দিন সোমবার (৫ অক্টোবর) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী কবিরাজপাড়া এলাকায় ৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সাংবাদিক তামজিদ হাসানের বাবা আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে জমিটি পাওয়ার পর প্রায় ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর সিভিল জজ আদালতে ২৬৮/২০২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে।


এজাহারে আরও বলা হয়, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে আমিনুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শামসাদ বেগম নিজেদের কেনা জমিতে ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া রমজান আলী, মামুনুর রশিদ মামুন, মনোয়ারা বেগমসহ পাঁচজন তাঁদের বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন।


একপর্যায়ে রমজান আলী বাঁশের লাঠি দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তাঁর ডান চোখের নিচে লাগে। এতে ওই স্থানে কালো ও ফোলা জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কয়েকজন লোহার রড দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।


অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ মামুন আমিনুল ইসলামের বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় স্ত্রী শামসাদ বেগম এগিয়ে এসে তাঁকে সরিয়ে দিলে আমিনুল ইসলাম রক্ষা পান।


এজাহারে শামসাদ বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মনোয়ারা বেগম তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করেন এবং রমজান আলী তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন।


চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত আমিনুল ইসলামকে স্থানীয় লোকজন অটোরিকশায় করে কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী শামসাদ বেগম স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।


সাংবাদিক তামজিদ হাসান বলেন, “বিবদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আমার বাবা-মা আমাদের কেনা জমিতে চারা রোপণ করতে যায়। সেখানে বিবাদীরা আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা আমার বাবা-মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”


কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিবাদী পক্ষও আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”