বাবা মারা গেছেন। বাড়িতে পড়ে আছে তাঁর নিথর দেহ। স্বজনদের আহাজারি আর শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। মাইকিং করে জানানো হয়েছে জানাজা ও দাফনের খবর। কিন্তু বাবার দাফনের আগেই সামনে এসেছে সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ। বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য হিস্যা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মেয়ে হালিমা বেগম। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য।

‎হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বক্সীগঞ্জ গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭৫)। পেশায় কৃষক এই ব্যক্তি রবিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলী ও মেয়ে হালিমা বেগম।

নিহতের পারিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টায় নিজ বাড়ির আঙিনায় নাজির উদ্দিনের জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার মুহূর্তে বাধ সাধেন নাজির উদ্দিনের মেয়ে হালিমা বেগম। তার অনড় অবস্থানের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা সম্পন্ন করা হয়নি। বিকাল ৪টা গড়ালেও বাবার কাফন জড়ানো মরদেহ বাড়ির উঠানেই খাটিয়ায় পড়ে আছে।

citytouch 728-X-90

মেয়ে হালিমা বেগমের অভিযোগ, বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এতে বাবার সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। তাই সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন হালিমা।

‎এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন এগিয়ে আসেন। ঘটনা মীমাংসা করতে তাৎক্ষণিক হালিমাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে সেই আর্থিক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন হালিমা। তিনি টাকার বিনিময়ে নয়, বরং দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিতে নিজের স্থায়ী ও আইনি অধিকার আদায়ের দাবিতে অনড় থাকেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি ছেলে ইদ্রিস আলী। তবে বিএনপি নেতা রুহুল আমিন জানান, ঘটনাটি তার বাড়ির পাশে। খবর পেয়ে নিজেই উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চালান। কিন্তু হালিমার অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বৃদ্ধের জানাজা কিংবা মরদেহ দাফন করা যায়নি।

এ বিষয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, সকাল থেকে উপজেলা পরিষদে আইনশৃঙ্খলা মিটিংএ ছিলাম। ঘটনাটি জানার পর থেকেই স্থানীয় মেম্বারকে বিষয়টি আপসের জন্য বলা হয়েছে। এখন শুনছি বিষয়টি সুরাহা হয়নি। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। সমাধান এলেই দ্রæত জানাজা ও মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

এ ব্যাপারে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, যদি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা না যায়, তাহলে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।