অবৈধ মাদক বিক্রির জন্য কিছুদিন আগে দারাজের ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা ও একজন বিক্রেতা গ্রেফতার হওয়ার পর আবারো আইন কিংবা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ গ্যাস বুস্টার সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগ রয়েছে দারাজের বিরুদ্ধে।
গ্যাসের সংকট ও কম চাপকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজে জমে উঠেছে ‘গ্যাস প্রেশার বুস্টার’ বা ছোট আকারের গ্যাস কম্প্রেসরের রমরমা ব্যাবসা। এর পাশাপাশি দারাজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও চলছে এ ধরনের অবৈধ গ্যাস বুস্টারের বিক্রির প্রচার প্রচারনা।
দারাজের অনলাইন বিজ্ঞাপনে দাবি করা হচ্ছে, বাসায় গ্যাসের চাপ কম থাকলেও এসব যন্ত্র বসিয়ে রান্নার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এক থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া এসব যন্ত্রের সঙ্গে কোথাও কোথাও এক বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি বা সার্ভিস ওয়ারেন্টির কথাও বলা হচ্ছে।
তবে গ্যাসলাইনে এ ধরনের বুস্টার বা কম্প্রেসর ব্যবহারের কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
তিতাসের মহাব্যবস্থাপক মো. শাহজাদা ফরাজী জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় কোনো অননুমোদিত যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না। কারও ব্যবহৃত কম্প্রেসর অতিরিক্ত গ্যাস টেনে নিলে একই লাইনের অন্য গ্রাহকদের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া এসব যন্ত্রের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তিতাসের হাতে না থাকায় এগুলো ব্যবহারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তিতাসের কর্মকর্তারা জানান, আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে কম্প্রেসর ব্যবহারের বিষয়টি সম্প্রতি তাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এর আগেও বিভিন্ন স্থান থেকে এ ধরনের কম্প্রেসর জব্দ করা হয়েছে।
তিতাসের ভাষ্য, শুধু ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না। বাজারে এসব যন্ত্রের প্রবেশ বন্ধ করতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ২০২৬ সালের নতুন গ্যাস বিপণন নিয়মাবলিতেও অননুমোদিত সরঞ্জাম বা বুস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।
এদিকে, দারাজের মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এর অবস্থান পেয়ে পণ্যের বৈধতা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক ক্রেতা অজান্তেই অননুমোদিত এসব যন্ত্র কিনে ব্যবহার করতে পারেন। ফলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকিতে থাকছেন। অননুমোদিত যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী জরিমানা থেকে শুরু করে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এদিকে বেচাকেনা এতটাই রমরমা যে, কোনো কোনো বিক্রেতারা তো দিনে ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত কম্প্রেসর বিক্রির দাবি করছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই, শুধু একটা পন্যের ব্যাবহারকারী ও সরবারহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিলেই কি এসকল অবৈধ এবং মারাত্মক ঝুকিপুর্ন পন্য বিক্রি বন্ধ হবে? যেখানে দারাজ সহ বিভিন্ন অনলাইল মার্কেটপ্লেসে বিজ্ঞাপন চালিয়ে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এসব পন্য।
উল্যেখ্য, দারাজে অবৈধ জিনিষ বেচাকেনার ঘটনা এবার নতুন নয়। এর আগে গত ১৬ আগস্ট দারাজে মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজনকে আসামি করে রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)।
সিবিডি ওয়েল নামের ওই পণ্যে উচ্চ মাত্রায় গাঁজার তরল উপাদান বা টিএইচসি (ট্রেট্রা হাইড্রো কন্যাবিস) পাওয়ার পর এ মামলা করা হয়। অভিযানে ওই পণ্য সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ছিল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচার ঘটনায় সংশোধিত আইনের আওতায় এটি প্রথম মামলা। পরে দারাজ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এবার গ্যাসের চাপ বাড়ানোর নামে অননুমোদিত কম্প্রেসর বিক্রির বিষয়টি সামনে আসায় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে পণ্য তালিকাভুক্তির আগে যাচাই-বাছাই এবং বিক্রিত পণ্যের ওপর নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।









