স্তনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা উঠলে বিষয়টি শুধু নারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত—এমন ধারণা সমাজে প্রচলিত থাকলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে স্তন সংক্রান্ত নানা সমস্যা নারী ও পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। বয়স, হরমোনের পরিবর্তন, কিছু শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য কারণে স্তনে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

লজ্জা, সংকোচ কিংবা সচেতনতার অভাবে অনেকেই স্তনে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করেন। অথচ স্তনে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে কারণটি দ্রুত নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের গোটা, চাকা, ব্যাথা বা পরিবর্তন ক্যানসারের লক্ষণ নয়, তবে পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিত হওয়াও সম্ভব নয়।

নারীদের ক্ষেত্রে যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন

নারীদের স্তনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—

citytouch 728-X-90

স্তনে বা বগলের নিচে গুটি: স্তনে কিংবা বগলের নিচে নতুন কোনো গুটি বা চাকা অনুভূত হলে তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অনেক গুটি ক্ষতিকর নয়; যেমন সিস্ট বা ফাইব্রোএডেনোমা। তবে গুটির প্রকৃতি নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

স্তনে বা বগলে ব্যাথা: ব্যাথা সাধারণত ইনফেকশন বা ফাইব্রোসিস্টিক ডিজিজের এর জন্য হয়ে থাকে কিন্তু দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা অবশ্যই প্রয়োজন।

ত্বকের পরিবর্তন: স্তনের ত্বকে অস্বাভাবিক গর্ত বা টান পড়া, খসখসে হয়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা দিলে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বোঁটা বা নিপলের পরিবর্তন: নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, আকৃতিতে পরিবর্তন কিংবা অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

নিপল থেকে অস্বাভাবিক স্রাব: বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত বা অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন: দুই স্তনের স্বাভাবিক পার্থক্যের বাইরে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

পুরুষদেরও হতে পারে স্তনের সমস্যা

পুরুষদের স্তনেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গাইনেকোমাস্টিয়া (Gynecomastia)। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কিছু ওষুধ, স্থূলতা বা অন্যান্য শারীরিক কারণে পুরুষের স্তনের টিস্যু বেড়ে যেতে পারে। কারণ অনুযায়ী এর চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া পুরুষদের স্তন ক্যানসারও হতে পারে, যদিও এটি তুলনামূলকভাবে বিরল। স্তনে শক্ত গুটি, নিপল থেকে অস্বাভাবিক স্রাব, নিপলের পরিবর্তন কিংবা স্তনের ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

স্তনে নতুন কোনো গুটি, অস্বাভাবিক স্রাব, ত্বক বা নিপলের পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করে আল্ট্রাসনোগ্রাম, ম্যামোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

নিজের শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নিজের স্তনের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে খেয়াল রাখলে নতুন কোনো পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তবে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলেই নিজে থেকে রোগের কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

স্তনের সমস্যা নিয়ে লজ্জা বা সংকোচের কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। নারী কিংবা পুরুষ—যে কারও স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

লেখক:

ডা. তামান্না আহমেদ

সহকারী অধ্যাপক, প্লাস্টিক সার্জারি

drtamanna.com