তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় আগরি প্রদেশের ‘দুরুপিনার ফরমেশন’ নামক নৌকা আকৃতির মাটির ঢিবিতে প্রাগৈতিহাসিক ‘নূহের নৌকা’র খোঁজে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ভূগর্ভস্থ রাডার স্ক্যান, ড্রিলিং ও রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত ভৌগোলিক কাঠামোর রহস্য উন্মোচনে কাজ করছেন তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। ১৯৫৯ সালে বিমান বাহিনীর আকাশছবির বিশ্লেষণে রহস্যময় এই নৌকা আকৃতির গঠনটি প্রথম শনাক্ত করেন তুর্কি মানচিত্রবিদ ইলহান দুরুপিনার। ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত পরিমাপের (প্রায় ১৫৭ মিটার) সাথে মিল থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই স্থানটিকে নূহের নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান বলে দাবি করা হচ্ছে। এ বছর গবেষকরা প্রায় ৯০ দিন মাঠ পর্যায়ে কাজ করে প্রায় ১৫০টি স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তুরস্কের সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক ড. জানকার আতিলা এবং মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্স। গবেষকরা জানান, রাডার স্ক্যানে ভূগর্ভে সমকোণী গঠন, সম্ভাব্য সুরঙ্গ, স্তরযুক্ত কাঠামো ও ফাঁপা স্থানের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। রাডারের চিহ্নিত স্থানগুলোতে সরু ড্রিল করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে; ‘গোফার’ নামের বিশেষায়িত রোবটের মাধ্যমে ভেতরের উচ্চমানের ভিডিও ধারণ ও নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে। ঢিবির ভেতরের ও বাইরের মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণে ব্যাপক পার্থক্য মিলেছে—ভেতরের মাটিতে তিন গুণ বেশি জৈব পদার্থ, ৩৮ শতাংশ বেশি পটাশিয়াম এবং আট গুণ ভিন্ন পিএইচ মাত্রা পাওয়া গেছে। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এটি এখনো ‘নূহের নৌকা’র চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নূহ (আ.)-এর নৌকা ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে; প্রমাণিত হলে স্থানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ধর্মীয় ও পর্যটন আগ্রহ তৈরি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নূহ (আ.)-এর নৌকার খোঁজে পাহাড় খনন, মিলল নতুন রহস্যের সন্ধান
তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশনে রাডার স্ক্যান ও ড্রিলিং
প্রকাশিত:
পড়তে ১ মিনিট

খবরটি শেয়ার করুন








