দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছিলেন বলে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম—এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল জানিয়েছেন, মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল। ঢাকায় এলে তিনি ওই পরিবারের বাসায় থাকতেন এবং সংসদীয় কাজকর্মও পরিচালনা করতেন। এর সূত্রে মরিয়মের সঙ্গে তার সখ্যতা তৈরি হয়। গত ১৭ জুন কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে মরিয়মকে বিয়ে করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি। পরে নিজ এলাকায় তাদের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট কাজির বরাতে ১৯ জুলাই বিয়ে নিবন্ধনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।আদালতে দাখিল করা আবেদনে পুলিশ আরও বলেছে, মামলাটি চাঞ্চল্যকর এবং রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এমন যুক্তিতে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।

citytouch 728-X-90

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় চার দিন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মাকসুদাকে এক দিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়, আর ২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও মামলার অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন।