রাজধানীর গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ১৫ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।

রিমান্ড শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিনকে ভর্ৎসনা করেন বিচারক। আসামি আরিফুর রহমানকে রিমান্ড আবেদনে ছাত্রদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আসামিপক্ষের দাবি, তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের নেতা। এ নিয়ে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চান।

বিচারক জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন,"কিসের তদন্ত কর্মকর্তা আপনি? ছাত্রলীগকে ছাত্রদল লেখেন। একটা ফরওয়ার্ডিং লিখছেন। তাও আবার গুলশান থানায় আছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, যা-তা লিখে পাঠিয়ে দেন।"

citytouch 728-X-90

এ সময় আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দিষ্ট তারিখও তদন্ত কর্মকর্তা বলতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন আদালত। বিচারক রিমান্ড আবেদনে তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন ও মামলার মূল বিষয় তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ মানুষের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রিমান্ডে নেওয়া ১৫ জনকে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানানো হয়েছে।

বিচারক আরও বলেন,"কাজের নামে কাজ না করে অকাজ করে বেড়াচ্ছেন। হাজার টাকা দিলে মিছিলে মানুষ পাওয়া যায়। গোড়ায় যান না কেন? সবকিছুকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেন কেন? আবেদন লিখতে ভুল হয়ে যায়। এরকম ভুল হলে কীভাবে মিছিল ঠেকাবেন।"