কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ কিশোরকে আটক করার পর থানায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে থানার একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ২২ কিশোর বের হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

আটক কিশোরদের স্বজন ও স্থানীয়রা বিকেল থেকেই দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। তাদের অভিযোগ, আটক কিশোরদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত রেকর্ডে কোনো অভিযোগ নেই। একপর্যায়ে থানার সামনে হট্টগোল ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

citytouch 728-X-90

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানার একটি কক্ষে রাখা কিশোরদের কয়েকজন চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বের হয়ে আসে। পরে তাদের একটি অংশ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

তবে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ সদস্যদের দাবি, আটক কিশোররা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ হওয়ায় তাদের থানায় আনা হয়েছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দেন এবং উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের স্বজনরা একসঙ্গে থানায় আসায় ভিড় তৈরি হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে বাকি ছয়জনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অফিসিয়াল পেজে জানানো হয়েছে, জেলার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়ায় এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের আগের কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।