নদী দখল ও ভরাটের অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় করা মামলায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ম্যানেজার (অ্যাডমিন) ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় নদী ভরাটে ব্যবহৃত বালু সরবরাহের সঙ্গে জড়িত মেসার্স মদিনার পথের মালিক মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। ফয়সাল ও সরওয়ারকে তিন বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মুক্তার ও নাহিদকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে সাজা কার্যকরসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার চারপাশের নদী দখল ও দূষণ বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর খিলক্ষেতের পাতিরা মৌজায় বালু নদী পরিদর্শনে যায় বিআইডব্লিউটিএ ও পুলিশের একটি দল। সেখানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট তীরভূমি ও নদী ভরাটের তথ্য পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় টঙ্গী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।
২০২২ সালের ৩১ মে তদন্ত শেষে চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আটজন সাক্ষীর মধ্যে তিনজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।










