ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে রোববার ভোরে আটক অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভের আগে তাকে আটক করা হয়েছিল। মুক্তির পর তাকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ভারতীয় সময় রোববার ভোর ৩টার দিকে ধ্রুব রাঠিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আবারও আটক করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। দিল্লির কিছু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে মামলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

citytouch 728-X-90

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস তখনো মুক্তি পাননি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতির অপেক্ষায় ছিলেন তারা। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন নেতা প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে আটক রয়েছেন। তাদের দ্রুত মুক্তির দাবিও জানানো হয়।

এর আগে শনিবার ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষকে আটক করা হয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি কয়েক ডজন মেট্রো স্টেশন ও বাজারও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ককরোচ জনতা পার্টি ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের ডাক দেয়। দলটি ও অন্যান্য বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় আরও শক্ত অবস্থানে রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছে আন্দোলনকারীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আন্দোলনকারীদের পরিকল্পনা ছিল মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজারো মানুষকে জড়ো করে প্রতিবাদ জানানো। কিন্তু বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক ধরপাকড় চালায়।