ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা নিয়ে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে গোষ্ঠীটি। ফলে সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা সৌদি আরবের পক্ষে এসব হামলা পুরোপুরি ঠেকানো কেন কঠিন—তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর হুথিরা রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হতাহত এবং বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবরও উঠে এসেছে। তবে হামলার তারিখ, হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে কী রয়েছে?
সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী উন্নত যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নজরদারি প্রযুক্তিতে সজ্জিত। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত এবং ধ্বংস করার জন্য তৈরি। তবু এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব পরিস্থিতিতে শতভাগ কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর হুথিদের সামরিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সময়ের সঙ্গে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যুক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে তারা ইয়েমেনের বাইরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।
হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে অস্ত্রের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন। তবে তাদের অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা, কার্যকর পাল্লা ও সক্ষমতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সব সময় পাওয়া যায় না।
কেন সব হামলা ঠেকানো কঠিন?
আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও একাধিক দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলা প্রতিহত করা জটিল। আক্রমণকারী একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করলে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দ্রুত লক্ষ্য শনাক্ত, ঝুঁকি নির্ধারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়।
ড্রোনের আকার ও উড্ডয়ন বৈশিষ্ট্যের কারণে কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গতি, উড্ডয়নপথ এবং আক্রমণের ধরনও আলাদা। ফলে প্রতিটি হুমকি মোকাবিলায় ভিন্ন প্রযুক্তি ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা প্রয়োজন হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যয়ের ব্যবধান। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি কিছু ড্রোন বা অস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুত ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ তৈরি হয়।
সৌদির পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ
হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসা রিয়াদের লক্ষ্য হলো হুথিদের সামরিক সক্ষমতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে বিমান হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের সব অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা সহজ নয়। বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে থাকা স্থাপনা, গোপন অবস্থান এবং পরিবর্তিত যুদ্ধকৌশলের কারণে অভিযান চালিয়েও হুমকি পুরোপুরি দূর করা কঠিন হতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হলে শুধু দেশটির নিরাপত্তাই নয়, আঞ্চলিক বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হুথিদের হামলা প্রতিরোধে সৌদি আরবের সামনে তাই সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এসব হামলা কতটা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা যাবে, তা নির্ভর করবে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা, সৌদির প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।










