যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ফেডারেল অপরাধ তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।

তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইলহান ওমর অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে। তবে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁকে চুপ করানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এটি চলমান একটি কেন্দ্রীয় অপরাধ তদন্তের অংশ। তবে কী অভিযোগের ভিত্তিতে পরোয়ানা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

citytouch 728-X-90

অন্যদিকে, তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলহান ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাঁর শৈশবে প্রয়াত বাবা এসব নথি পূরণ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

ইলহান ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার এবং নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন তাঁরা। তবে ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

তল্লাশির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। ওমর সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর কর্মকাণ্ড সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওমরকে অসৎ বলেও আখ্যা দেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, তল্লাশির পর দেওয়া পোস্টে ওমর বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, বছরের পর বছর ধরে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি এ ঘটনাকে রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের প্রচারণার অংশ বলেও উল্লেখ করেন।

গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রসঙ্গ তুলেছেন। গত শনিবার এক সমাবেশে তাঁকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ওমর তাঁর ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা উচিত। অভিযোগটি ছিল, অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ভুয়া বিয়ে করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। ওমরও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগটি অস্বীকার করে আসছেন।

গত মার্চে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ওমরের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের সঙ্গে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার কথাও জানান তিনি। গত মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনও তদন্ত চলার কথা জানিয়েছিলেন।

সোমালীয় বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর ২০১৯ সালে রাশিদা তালিবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম দুই মুসলিম নারী সদস্যের একজন হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে তিনি ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের সমালোচনা ও আক্রমণের মুখে পড়েছেন।

তবে তাঁর বাড়িতে তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। অভিযোগ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টির চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট নয়।