বিশ্বের ইতিহাসে উষ্ণতম বছর হয়ে উঠতে পারে ২০২৬ সাল। প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালেও তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো এ বিষয়ে সতর্ক করেন। তাঁর মতে, অতীতের এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের উষ্ণ পর্যায়। এ সময় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। কোথাও খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

citytouch 728-X-90

কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো ৩.৪ এলাকায় গত সেপ্টেম্বরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। সংস্থাটির উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনো পর্বেও এমন তাপমাত্রা দেখা যায়নি।

চলতি বছরের জুনে এল নিনোর বর্তমান পর্ব শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কার্লো বুয়োনতেম্পোর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের এল নিনো পর্বগুলোর সরাসরি তুলনা করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

এদিকে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থাও জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি রেকর্ডে থাকা সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে। তবে বিভিন্ন সংস্থা এল নিনোর শক্তি নির্ধারণে ভিন্ন ভিন্ন সূচক ব্যবহার করায় তাদের মূল্যায়নে পার্থক্য থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এল নিনোর প্রভাব ও চলমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন একসঙ্গে তীব্র হলে আগামী বছরগুলোতে তাপপ্রবাহ, খরা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে ২০২৬ সাল নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের উষ্ণতম বছর হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী মাসগুলোর তাপমাত্রা ও জলবায়ুর পরিস্থিতির ওপর।