সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য দ্রুত জানানো, টিকিট পুনঃবুকিং ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া এবং বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রমে বিঘ্ন ও সীমিত পরিচালনার পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বেবিচক।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দর বন্ধ, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করতে হবে। এ জন্য এসএমএস, টেলিফোন, ইমেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কার্যকর যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।
শুধু ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য জানালেই হবে না, পরিবর্তিত সময়সূচি, পুনঃবুকিংয়ের সুযোগ, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এবং যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো যাত্রীকে বিমানবন্দরে যেতে বলার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পরিস্থিতিতে পৃথক নির্দেশনা দিয়েছিল বেবিচক। ওই নির্দেশনায় বিমানবন্দরটি ১২ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। রিয়াদে সরাসরি বা ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলোকে তখন যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরে আরও নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এতে সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার কথা বলা হয়নি।
বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তা
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না হয়ে বা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ার আগেই যেসব যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন, তাঁদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, হালকা খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে হবে।
বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হবে।
ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তা
ফ্লাইট বিঘ্নের কারণে কোনো যাত্রীর সৌদি আরবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়ে যাত্রীদের সহায়তা করতে হবে।
তবে ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি বা নবায়নের কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এ ধরনের বিষয় সৌদি কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
সমন্বয়ের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ
ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন মোকাবিলায় প্রতিটি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে পর্যাপ্ত সহায়ক কর্মীসহ একজন দায়িত্বশীল সমন্বয় কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বেবিচক।
নিয়োগ করা কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা দ্রুত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
একই সঙ্গে যাত্রীদের সহায়তা, ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য আদান-প্রদান এবং পরিচালনাগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনা দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ। এগুলোর অনুলিপি বিমানবন্দরের এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী ও দেশটি হয়ে ট্রানজিট নেওয়া যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টিকিট পুনঃবুকিং, অর্থ ফেরত এবং ভিসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জেনে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।










