যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে গণহত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার অবিলম্বে শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আওয়ামী লীগের সহিংস রাজনৈতিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর দাবি, জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও দলটির নেতাকর্মীদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনারও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

citytouch 728-X-90

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশে-বিদেশে সক্রিয় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ বিগত শাসনামলে গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিচার সম্পন্ন করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে গণহত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকারের সাবেক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

এর আগে স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৮-এ পৌঁছানোর পর কয়েকজন ব্যক্তির বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েন তিনি।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে কয়েকজন ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তাঁদের ‘ইউ আর আ টেররিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলতে শোনা যায়।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নাহিদ ইসলাম এ ঘটনাকে হেনস্তার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করার দাবি তুলেছেন।