ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ। রোববার (১১ অক্টোবর) বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
মরদেহ দেশে আনা ও হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় বেনাপোল সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি তদারকিতে বিজিবি, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোটনের মৃত্যু হয়। পরে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
কলকাতা থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে রোটনের স্ত্রী আরেফা সুলতানা ও নিকটাত্মীয় সোহানুর রহমান দেশে আসেন। ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সটি বেনাপোল চেকপোস্টে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ অংশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনের পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।
মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক বছর বয়সী যমজ দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।









