ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এক অন্তঃসত্ত্বা সাংবাদিককে হাত ধরে জোরে টেনে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক রিচা পরাশর। তিনি বর্তমানে দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রিচার অভিযোগ, বিক্ষোভের সময় রাহুল গান্ধী তাঁর হাত ধরে জোরে টান দিলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এতে তাঁর হাঁটু ও পেটে আঘাত লাগে। এ সময় তাঁর ক্যামেরাপারসনকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

রিচা জানিয়েছেন, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার সময় পরিস্থিতি এত দ্রুত বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে যে নিজেকে সামলে নেওয়ার সুযোগ পাননি। তাঁর দাবি, ভিড়ের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পর ক্যামেরাপারসনসহ আরও কয়েকজন তাঁর ওপর পড়ে যান।

citytouch 728-X-90

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন রিচা। তবে ভিডিওতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে।

রিচার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিক্ষোভ চলছিল। সে সময় সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে একটি ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য নেওয়ার অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

রাহুল গান্ধী বেরিয়ে এলে প্রথমে তাঁর দিকে মাইক্রোফোন এগিয়ে দেন রিচা। রাহুল ইশারায় মাইক্রোফোন সরিয়ে নিতে বললে তিনি সেটি সরিয়ে নেন। পরে অন্য সাংবাদিকেরা আবার মাইক্রোফোন এগিয়ে দিলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনিও মাইক্রোফোন সামনে নেন।

রিচার অভিযোগ, এরপর রাহুল গান্ধী তাঁর দিকে এগিয়ে এসে হাত ধরে জোরে টান দেন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সরিয়ে দেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রবেশপথে সিঁড়ি থাকায় ভিড়ের মধ্যে তিনি সামনের দিকে পড়ে যান বলে দাবি করেন এই সাংবাদিক।

রিচা আরও জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে যায় এবং মাইক্রোফোনের রিসিভারও খুলে পড়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তিনি ভদ্রভাবেই কথা বলছিলেন। তাই তাঁর কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেননি।

তবে রিচার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কংগ্রেস নেত্রী অলকা লাম্বা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘটনার সময়ক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ভিডিওতে রাহুল গান্ধীর ধাক্কা দেওয়া বা হাত ধরে টানার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

লাম্বা আরও প্রশ্ন তোলেন, রিচার দাবি অনুযায়ী বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘটনা ঘটলে তাঁকে রাত সাড়ে ৮টায় হাসপাতালে নেওয়া হলো কেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁর এক্স-রে করানোর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এসব প্রশ্নের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, আহত সাংবাদিককে সহায়তা করার পরিবর্তে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

রিচাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভান্ডারি। এ সময় তিনি রাহুল গান্ধীর আচরণের সমালোচনা করে বলেন, পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলা রাহুল গান্ধী একজন সাংবাদিকের সঙ্গে গুন্ডার মতো আচরণ করেছেন।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার জনপ্রিয় স্লোগান ‘লড়কি হুঁ, লড় সকতি হুঁ’ উল্লেখ করেও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন বিজেপির এই মুখপাত্র। তাঁর দাবি, এ ঘটনা কংগ্রেসের প্রকৃত চেহারা সামনে এনেছে।

তবে পুরো ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং কংগ্রেসের পাল্টা দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ভিডিও ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।