পাকিস্তানে ট্রেনযাত্রার সময় এক বিদেশি পর্যটকের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশির পাশাপাশি জামাকাপড় ও মোজা শুঁকে দেখার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পুলিশের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লাহোর থেকে করাচিগামী গ্রিন লাইন ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। ওই ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন মালয়েশিয়ার নাগরিক এইমন ও জার্মানির নাগরিক লুইজা। তাঁরা প্রথম শ্রেণির শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায় ছিলেন।
মালয়েশীয় পর্যটক এইমন ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রার শুরুতে কর্মকর্তারা তাঁদের টিকিট ও পাসপোর্ট পরীক্ষা করেন এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নথির ছবি তোলেন। প্রায় ১০ মিনিট পর এক পুলিশ কর্মকর্তা আবার তাঁদের কামরায় ফিরে এসে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি শুরু করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে এইমনকে তল্লাশি করা হয়। পরে জার্মান পর্যটক লুইজাকে উঠে দাঁড়াতে বলা হয়। এরপর তাঁর ব্যাগ খুলে কাপড়, মোজা ও প্রসাধনসামগ্রী পরীক্ষা করেন ওই কর্মকর্তা। একপর্যায়ে কয়েকটি জিনিস নাকের কাছে নিয়ে শুঁকে দেখতেও দেখা যায় তাঁকে। এতে দুজন পর্যটককেই অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়।
নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি পরীক্ষা করা নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। তবে নথি যাচাইয়ের পরও কেন এভাবে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
এখন পর্যন্ত তল্লাশির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ভিডিওতেও ওই কর্মকর্তার এমন আচরণের পেছনের কারণ স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে পুলিশ কর্মকর্তার আচরণকে অনধিকারচর্চা ও অপমানজনক বলে সমালোচনা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী কর্মকর্তার আচরণকে শুঁকে তল্লাশি করা প্রশিক্ষিত কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের তল্লাশির আগে এর আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে যাত্রীদের জানানো উচিত।
তবে কয়েকজন ব্যবহারকারী পুলিশের পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন। তাঁদের মতে, মাদকসহ নিষিদ্ধ কোনো বস্তু বহন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা তল্লাশি প্রয়োজন হতে পারে। যদিও এ ঘটনায় মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে যাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা কতটা রক্ষা করা হচ্ছে।










