ভারতের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে দুটি বিশেষ রকেট উৎক্ষেপণের চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিফ্লেক্ট অরবিটাল। মহাকাশে বিশেষ ধরনের প্রতিফলক স্থাপন করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলে সূর্যের আলো পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্কাইরুটের রকেট ব্যবহার করা হবে।
চুক্তিটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, স্কাইরুটের বিক্রম-১ রকেটের সফল উৎক্ষেপণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি পাওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তির প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিফ্লেক্ট অরবিটাল মহাকাশে এমন আয়না বা প্রতিফলক স্থাপনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে সূর্যের আলো পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিফলিত করা সম্ভব হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সূর্যাস্তের পরও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি রাতের বেলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং প্রচলিত আলোকসুবিধা সীমিত এমন এলাকায় আলো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগতে পারে।
রিফ্লেক্ট অরবিটালের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বেন নওয়াক জানিয়েছেন, বর্তমানে মহাকাশে স্যাটেলাইট ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় উৎক্ষেপণসুবিধার সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন উৎক্ষেপণ সেবাদাতা হিসেবে স্কাইরুটের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তারা আশাবাদী।
স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সাবেক দুই প্রকৌশলী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত ডাক্কা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। বেসরকারি উদ্যোগে রকেট তৈরি এবং বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর সুযোগ সম্প্রসারণ করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
২০২২ সালে স্কাইরুটের বিক্রম-এস রকেট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এরপর দীর্ঘ উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি বিক্রম-১ রকেট তৈরি করে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রথম উৎক্ষেপণেই রকেটটি কক্ষপথে পৌঁছায়, যা ভারতের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্কাইরুটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পবন কুমার চন্দনা বলেন, রিফ্লেক্ট অরবিটালের মতো উচ্চাভিলাষী আন্তর্জাতিক মহাকাশ প্রকল্পের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই বিক্রম সিরিজের রকেট তৈরি করা হচ্ছে। দুটি নির্ধারিত উৎক্ষেপণের মাধ্যমে গ্রাহককে সময়সূচির নিশ্চয়তা ও মিশন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেওয়ার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মহাকাশ উৎক্ষেপণ সক্ষমতার প্রধান প্রতিনিধিত্ব করেছে দেশটির সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ছে। স্কাইরুটের সঙ্গে রিফ্লেক্ট অরবিটালের এই চুক্তি সেই পরিবর্তনের আরেকটি উদাহরণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারে ভারতের বেসরকারি রকেট নির্মাতাদের সম্ভাবনাও আরও জোরালো হলো।










