পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ স্থগিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়েছে। তবে প্রাদেশিক প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


রোববার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ সরাসরি কেন্দ্রের হাতে নেওয়া হয়। সরকারের দাবি, ওই অঞ্চলে জঙ্গি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান খানের দল অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তার অজুহাতে রাজনৈতিকভাবে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে।

citytouch 728-X-90


প্রাদেশিক প্রশাসনের তথ্যবিষয়ক দায়িত্বে থাকা সামার হারুন বিলোর পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বেনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, দাঙ্গা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


অন্যদিকে, ইমরান খানের সহযোগী ও পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তিনি ভিডিওগুলোকে বারার বাজার এলাকার সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন। বুখারি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি ও গভর্নরের শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।


প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে বিরোধের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। তবে পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতবিরোধ রয়েছে।