বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারতে তৈরি ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচের মধ্যে প্রথম ১৮টি কোচ পাঠানো হয়েছে। এসব কোচে যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তার জন্য আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চালান সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরি, কাপুরথালা থেকে প্রথম চালানের কোচগুলো পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের অধীন রেলওয়ে প্রকৌশল ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড (RITES) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রথম চালানে সাত ধরনের কোচের মধ্যে চার ধরনের মোট ১৮টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি শোভন চেয়ারকার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ারকার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে গার্ডদের জন্য আলাদা কক্ষ ও মালপত্র রাখার জায়গা রয়েছে।
নতুন কোচগুলোতে যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি হেলান দেওয়া যায় এমন আসন, স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পায়ের ভর রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। আসনগুলো একাধিক অবস্থানে হেলিয়ে নেওয়া যাবে। এ ছাড়া এসি কোচে ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, যাত্রীদের জরুরি সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশু পরিচর্যা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের রেলপথে চলাচলের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় কোচগুলোর ছাদও শক্তিশালী করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে ছাদে যাত্রী ওঠার কারণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে তা সামলানোর বিষয়টি মাথায় রেখে এ নকশা করা হয়েছে। তবে ট্রেনের ছাদে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
কোচগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের কোচে সাধারণত ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশে সরবরাহ করা কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের ব্যবস্থায় চলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
২০০টি ব্রডগেজ কোচ সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালে রেল কোচ ফ্যাক্টরিকে দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৯১৫ কোটি ভারতীয় রুপি। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরি। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার সাত ধরনের ২০০টি কোচ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে পুরোনো হয়ে আসা বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।










