কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন একটি টর্পেডো ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, ‘জাম-২.০’ নামের এই অস্ত্রটি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং নির্ভুলভাবে পরিচালনাযোগ্য।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার অস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন টর্পেডো ব্যবস্থাটির পরীক্ষায় এর চালিকাশক্তি যাচাই করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ১৮০টিরও বেশি পরীক্ষার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। তবে অস্ত্রটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার এই দাবির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে আরও সক্রিয় হয়েছে পিয়ংইয়ং। এর মধ্যে প্রায় তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পানির নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরীক্ষাও রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার পর উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এখন নৌ-সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সম্প্রতি পরিচালিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় এমন একটি সাবমেরিন ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে, যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মোতায়েন করা হয়নি।

পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, সাবমেরিনটি পারমাণবিক অস্ত্র বহন ও উৎক্ষেপণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ও ৩ অক্টোবর বিভিন্ন পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দাবি করেছেন, ৩ অক্টোবর পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার উন্নত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু অস্ত্রগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও নির্ধারণের মতো উন্নত ডিজিটাল সক্ষমতা সত্যিই রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। দেশটিকে ‘স্থায়ী শত্রু’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন কিম জং উন।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা ও নৌ-সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ উত্তর কোরিয়ার সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচিরই অংশ। তবে এআইচালিত টর্পেডোর প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন।