ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবে একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। দেশটির তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের আকাশে একটি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। পরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরও একটি ড্রোন ধ্বংসের খবরও জানিয়েছে তারা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী সানাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা চলছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যকার সংঘাতও নতুন করে তীব্র হয়ে উঠছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক এলাকা। এ অঞ্চলে দেশটির অধিকাংশ তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ও এখানে অবস্থিত।

গত কয়েক সপ্তাহে এ অঞ্চলে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি অক্টোবরের শুরুতে একটি হামলায় সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করে, হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন মদিনা অঞ্চলের আকাশে শনাক্ত করার পর সেটি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।

ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী মদিনায় প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের আকাশে ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সৌদি আরবে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার এসব ঘটনা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।