ভারতের উত্তরাখণ্ডে যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ তীর্থযাত্রী ও এক পাইলটসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটির সব আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার বিকেলে হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান বদরিনাথ থেকে উড্ডয়নের পর হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে চামোলি জেলার জোশিমঠের কাছে একটি গ্রামের পাশে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। সেখান থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও কম দৃশ্যমানতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার আগে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ওই এলাকায় কমলা সতর্কতা জারি করেছিল। সতর্কবার্তায় বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
চীন ও নেপাল সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত উত্তরাখণ্ড ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতিবছর লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ রাজ্যটির বিভিন্ন মন্দিরে ভ্রমণ করেন। বদরিনাথ হিন্দুদের চারধাম তীর্থযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ যাত্রার অন্য তিনটি তীর্থস্থান হলো কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী।
দুর্গম পাহাড়ি পথ এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াতের জন্য তীর্থযাত্রীদের মধ্যে হেলিকপ্টার পরিষেবার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক দুর্ঘটনায় এ পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে কেদারনাথের কাছে তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হন। একই তীর্থযাত্রার পথে ২০২২ সালের অক্টোবরে আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাতজন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের তীর্থযাত্রার মৌসুমে আরও কয়েকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার পর বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা যাচাই জোরদার করে এবং কয়েকটি হেলিকপ্টারের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।








