যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ক্রিস্টা পাইক (৫০)। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর কষ্ট হচ্ছে।

আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ক্রিস্টা পাইক জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর থেকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ব্যথামুক্ত থাকতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, এই যন্ত্রণা শারীরিক ও মানসিক—দুই ধরনেরই।

তিনি আরও বলেন, ওই রাতের পর বেঁচে থাকার কথা কখনো ভাবেননি। যাঁদের অদক্ষতার কারণে এত মানুষকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।

১৯৯৫ সালে ক্রিস্টা পাইক ও তাঁর প্রেমিক মিলে ১৯ বছর বয়সী এক সহপাঠীকে নির্যাতন, ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যা করেন। অপরাধের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। এ ঘটনায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে ফ্লোরিডা থেকে এসেছিলেন নিহত তরুণীর মা।

বিবৃতিতে পাইক নিহত তরুণীর পরিবার এবং তাঁদের সহ্য করা ভয়াবহ যন্ত্রণা ও ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন।

পাইকের আইনজীবীদের দাবি, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ ফেনোবারবিটালের দুটি পৃথক ডোজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওষুধটি রক্তপ্রবাহে প্রবেশ না করায় তাঁর মৃত্যু হয়নি। বরং ওষুধটি দুই বাহুতে জমা হয়ে সেখানে ক্ষত ও ফোসকা সৃষ্টি করে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর কয়েক দিন অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন পাইক। পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তাঁকে আবার টেনেসির কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে এবং তাঁকে নির্জন কারাকক্ষে রাখা হয়েছে।

এদিকে, পাইকের আইনজীবীরা তাঁকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ দেওয়ার জন্য একটি ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর নির্জন কারাকক্ষে আটকে রাখায় পাইক গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছেন।

এ ছাড়া তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের জন্য টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছেও আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গভর্নর বিল লি জানিয়েছেন, আদালত ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে পাইকের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলে তিনি মনে করছেন।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি তদন্তে স্বাধীন পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর। একই সঙ্গে চলতি বছর টেনেসিতে নির্ধারিত অন্যান্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সূচিও স্থগিত করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সংশোধন বিভাগের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও কারা প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।