দেশে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের কঠোর হাতে দমনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পোশাকশিল্প খাতের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোনো শ্রমিক এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বলে তারা মনে করেন না। কোনো শ্রমিক সংগঠনও জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডের মাধ্যমেই তাদের মজুরি নির্ধারণ করা হবে। শ্রমিকদের জীবনমান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হবে, যাতে কোনোভাবেই রপ্তানি খাতে সংকট তৈরি না হয়। মালিকদের শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, হঠাৎ করে মালিকরা কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। তবে আগামী দিনে তারা কারখানা বন্ধ রাখবেন না বলে সরকার আশা করছে।

মজুরি নির্ধারণ ও সংশ্লিষ্ট বৈঠক মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিচালনা করবেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।