নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থও তাঁদের হিসাবে জমা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে অনেক সরকারি কর্মচারী তাঁদের মোবাইল ফোনে অক্টোবরের বেতন ও গত তিন মাসের বকেয়া অর্থ জমা হওয়ার এসএমএস নোটিফিকেশন পেয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের প্রায় সবাই বর্ধিত বেতন-ভাতা পেয়েছেন। তবে যেসব কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি, তাঁরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী সংশোধিত বেতন পাননি।

কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁরা বার্তা পেয়েছেন। পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বাকি কর্মচারীরাও তাঁদের পাওনা পেয়ে যাবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।

সরকার গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে। এতে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর ধরা হয়েছে ১ জুলাই থেকে। তবে একবারে পুরো সুবিধা না দিয়ে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ ৩০ জুনে উত্তোলিত বা প্রদেয় বেতনের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে।

পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ সংশোধিত স্কেলের পুরো ১০০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্যান্য সব ভাতা আগের হারেই বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত ভাতাগুলোর সংশোধিত হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। ফলে দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো। ২০১৫ সালের বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ৯৫ শতাংশ মূল বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিল।