প্রবাস
প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা ঠেকাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই প্রথম ধাপে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে দালালচক্র, সিন্ডিকেট ও প্রতারণা ঠেকিয়ে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
মালয়েশিয়া সফর শেষে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন।
তারা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গত তিন মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকগুলোতে দ্রুত শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কম খরচে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল (BOESL)–এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অনুমোদন দেবে মালয়েশিয়া সরকার।
প্রতিনিধিদল আরও জানায়, অতীতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণার সুযোগ রাখা হবে না। এমন একটি নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয় এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা যায়।
শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ সময় মালয়েশিয়া সরকার, দেশটির প্রধানমন্ত্রী, মানবসম্পদমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।









