সরকারি চাকরি পাওয়ার পর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস তাঁকে তালাক দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উনকিলা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে স্ত্রীর পড়াশোনা, কোচিং, বাসাভাড়া ও চাকরির প্রস্তুতির খরচ বহন করার পর তিনি এখন আর্থিকভাবে কঠিন অবস্থায় পড়েছেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলাও করেছেন তিনি।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে সাইফুল ও জান্নাতুল ফেরদাউসের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সাইফুল জীবিকার প্রয়োজনে মালয়েশিয়ায় চলে যান। সেখান থেকে তিনি স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার ইচ্ছাকে সমর্থন করেন এবং তাঁকে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি করান।
পরবর্তীতে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন সাইফুল। তাঁর দাবি, প্রায় চার বছর ধরে কোচিং, পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ তিনি বহন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী পদে চাকরি পান জান্নাতুল।
সাইফুলের অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। গত ১ জুলাই তিনি কাউকে না জানিয়ে দেশে ফিরে স্ত্রীর কর্মস্থলে যান। সেখানে দেখা হলেও স্ত্রী তাঁকে অপেক্ষায় রেখে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের জানালে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও কয়েক দিন পর জান্নাতুলের পাঠানো তালাকের নোটিশ তাঁর বাড়িতে পৌঁছে।
সাইফুল বলেন, স্ত্রীর বিভিন্ন চাহিদা পূরণ ও পড়াশোনার পেছনে প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন। বর্তমানে তিনি আর্থিকভাবে সংকটে রয়েছেন বলেও দাবি করেন।
তবে সাইফুলের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাই ফয়সল আহমেদ বলেন, বিদেশে থাকা অবস্থায় সাইফুল তাঁর বোনের খোঁজখবর রাখতেন না—এমন অভিযোগ থেকেই জান্নাত তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে ফয়সল আহমেদ স্বীকার করেন, জান্নাতুলের পড়াশোনা, কোচিং, ঢাকায় বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ সাইফুলের অর্থে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাইফুল আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার আশা করছেন।










