স্মার্টফোনে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলার পর সেই বিষয়সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন চোখে পড়লে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ফোন কি গোপনে কথাবার্তা শুনছে? স্মার্টফোন বা স্মার্ট টিভি ব্যবহারকারীর প্রতিটি কথা রেকর্ড করে পাঠাচ্ছে—এমন ধারণার পক্ষে সার্বজনীন প্রমাণ নেই। তবে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, বিভিন্ন অ্যাপের মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি এবং অনলাইন কার্যকলাপের তথ্য সংগ্রহের কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

অনেক ডিভাইসে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট নির্দিষ্ট শব্দ বা নির্দেশ শনাক্ত করার জন্য প্রস্তুত থাকে। এ ছাড়া অ্যাপের অনুমতি অনুযায়ী মাইক্রোফোন ব্যবহার করা সম্ভব। অন্যদিকে, সার্চের ইতিহাস, ওয়েবসাইটে ব্রাউজিং, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং অনলাইন আচরণের ভিত্তিতেও ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুমান করে বিজ্ঞাপন দেখানো হতে পারে।

তাই কোনো বিজ্ঞাপন দেখেই ফোন গোপনে কথা রেকর্ড করছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে কোন অ্যাপ কখন মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

citytouch 728-X-90

ফোন মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে কি না বুঝবেন যেভাবে

বর্তমানের অনেক অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা চালু হলে পর্দার ওপরের দিকে একটি ছোট সবুজ বা কমলা রঙের নির্দেশক দেখা যায়। তবে নির্দেশকের রং ও অবস্থান অপারেটিং সিস্টেম এবং ডিভাইসভেদে আলাদা হতে পারে।

আপনি কোনো কল বা ভয়েস রেকর্ডিংয়ে যুক্ত না থাকা অবস্থায় এ ধরনের নির্দেশক দেখতে পেলে কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে, তা যাচাই করুন। নির্দেশকটি দেখা গেলেই যে গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করা হচ্ছে, এমন নয়; কোনো বৈধ অ্যাপের কার্যক্রমের কারণেও এটি দেখা যেতে পারে।

ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া বা মোবাইল ডেটার ব্যবহার অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়াও খেয়াল রাখতে পারেন। তবে এসব লক্ষণ একা গোপনে অডিও রেকর্ডিংয়ের প্রমাণ নয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অন্যান্য অ্যাপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক কিংবা ব্যাটারির পুরোনো অবস্থার কারণেও এমন হতে পারে।

ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে?

কোনো অ্যাপ প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাইক্রোফোনের অনুমতি পেলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। অ্যাপটি কীভাবে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করে, তার ওপর নির্ভর করে সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকিও থাকতে পারে।

এ ছাড়া অনলাইন কার্যকলাপ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও পছন্দ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা সম্ভব। এসব তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানো হতে পারে। তথ্য অননুমোদিতভাবে কারও হাতে পৌঁছে গেলে প্রতারণামূলক বার্তা, ভুয়া অফার কিংবা ফিশিংয়ের মতো সাইবার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ফোনে মাইক্রোফোনের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ রাখলে গোপনীয়তা রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যায়।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণত Settings থেকে Apps অথবা Security & privacy অপশনে যেতে হবে। এরপর Permission manager বা Permissions অপশন থেকে Microphone নির্বাচন করুন। ফোনের মডেল ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনুযায়ী মেনুর নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।

এখানে কোন কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, তা দেখা যাবে। যেসব অ্যাপের এই অনুমতি প্রয়োজন নেই, সেগুলোর জন্য Not allowed বা Don’t allow নির্বাচন করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো কোনো অ্যাপের ক্ষেত্রে শুধু ব্যবহারের সময় অনুমতি দেওয়ার বিকল্পও বেছে নিতে পারেন।

আইফোনে Settings থেকে Privacy & Security-তে গিয়ে Microphone অপশন খুলুন। সেখানে তালিকাভুক্ত অ্যাপগুলোর জন্য মাইক্রোফোনের অনুমতি চালু বা বন্ধ করা যায়।

অনুমতি পরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট অ্যাপের প্রয়োজনীয় ফিচার কাজ করছে কি না, তা যাচাই করতে পারেন। মাইক্রোফোনের অনুমতি বন্ধ থাকলে অ্যাপটি সাধারণত সেই অনুমতি ছাড়া মাইক্রোফোন ব্যবহার