‘ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ’ বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া এন্ড ফিল্ম’ রাখা ও বিভাগটিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে নেওয়ার দাবিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিভাগের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’, ‘মিডিয়ার সঙ্গে কমিউনিকেশন যুক্ত চাই’, ‘কারিকুলাম গ্লোবাল, ফ্যাকাল্টি কেন লোকাল’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) একই দাবিতে বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণাও দেন তারা। শিক্ষার্থীদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ডিনের কাছে স্মারকলিপি দেন। পরে বিভাগের ১২৯তম একাডেমিক কমিটির সভায় নাম ও অনুষদ পরিবর্তনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। এরপর ৩ নভেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভাগের নাম ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া এন্ড ফিল্ম’ করার এবং বিভাগটিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিভাগের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইনজামুল হক ওভি ফকির বলেন, ‘আমরা প্রায় ১৪ মাস ধরে বিভাগের নাম পরিবর্তন ও অনুষদ পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু এখনো বিভাগের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। আমরা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি বিভাগের নাম পরিবর্তন না হয়, তাহলে তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তুলব।’ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহসিন হক শাহ বলেন, ‘আমরা বিগত ১৪ মাস ধরে আন্দোলন করছি। আমাদের বিভাগের নামের সঙ্গে কমিউনিকেশন যুক্ত করতেই হবে। কারণ আমরা একাডেমিক কমিউনিকেশনের একাধিক কোর্স করছি এবং আমাদের পড়াশোনার একটি বড় অংশ কমিউনিকেশন ভিত্তিক। কিন্তু বিভাগের নামের সঙ্গে কমিউনিকেশন না থাকায় চাকরির ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম এন্ড মিডিয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে রয়েছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগটি কলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের একাডেমিক কাঠামো ও পড়াশোনার ধরন বিবেচনায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে নেওয়া প্রয়োজন।’ শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিভাগে তালা দেওয়ার বিষয়ে ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জিল্লুর রহমান পল বলেন, “এই দাবিটা আছে কর্তৃপক্ষের টেবিলে আমি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে এখানে নিরুপায়, আজকে বিভাগে পরিক্ষা আছে, এক্সপার্টও চলে এসেছে। শিক্ষার্থীদের দাবির কথা আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।” আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জনি বলেন, বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাবি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৩ অক্টোবর সিন্ডিকেটের সব সদস্য এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। তার আগে কিছু জানানো সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের ১৪ সদস্যের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর।’ দুনী/ইম