রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ফুটপাতে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দুই পুলিশ সদস্যকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখা গেলেও তাঁরা মারধর থামাতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মারধর এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীত পাশের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে এক ব্যক্তিকে গালিগালাজ, চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। একপর্যায়ে তাঁকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।

ভিডিওতে আশপাশের কয়েকজনকে ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’ এবং ঘটনাটি একটি ক্যানটিনে ঘটেছে বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়। কয়েকজন পথচারী মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালে মারধরকারী যুবক ও এক পথচারী তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর তাঁকে আবারও চড় মারা হয়।

citytouch 728-X-90

ঘটনার সময় কাছেই দুই পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে ভিডিওতে তাঁদের মারধর থামাতে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এ কারণে পুলিশের দায়িত্ব পালন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ অভিযোগ করেছেন, তরুণীর অভিযোগের পর যথাযথ আইনি সহায়তা না পাওয়ায় তাঁর স্বজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। তবে এসব পোস্টে করা সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, ওই ব্যক্তি তাঁকে খারাপভাবে স্পর্শ করেছিলেন। ঘটনার পর তাঁকে ধরে কর্তব্যরত দুই পুলিশ সদস্যের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে ওই ব্যক্তিকে নিতে আগ্রহ দেখায়নি এবং তাঁকে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে মামলা করতে বলে। অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে তরুণী তাঁর মামাকে ফোন করলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। এরপর পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।

ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন ভূঁইয়া জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, তরুণীকে স্পর্শ করার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ইমরান আহমেদ অভিযুক্ত শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানাকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। অভিযোগ স্বীকার করার পর তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিচারক। পরে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, উত্তেজিত জনতার মারমুখী আচরণের কারণে তাঁরা ওই ব্যক্তিকে রক্ষা করতে এগিয়ে যেতে সাহস পাননি। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধর করা যুবকও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ করেছেন। তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

ওসি আরও জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এমবিবিএস পড়ার সময় তাঁর এ সমস্যা দেখা দেয়। তাঁর বিয়ে হয়েছিল, তবে অনেক আগেই স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন।