ঢাকার কেরানীগঞ্জে কিশোরী মোসা. তানজিলা (১৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের বিরোধের জেরে তানজিলাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক মো. রানা হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার এমএন মোর্শেদ এসব তথ্য জানান।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

citytouch 728-X-90

তদন্তে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক হিসেবে কাজ করতেন রানা। নিহত তানজিলার সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে তা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পিবিআইর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার বিকেলে রানা নিজের অটোরিকশায় করে তানজিলাকে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগরের একটি নির্জন হাউজিং এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রথমে তানজিলার গলা চেপে ধরেন। পরে ফল কাটার ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর তানজিলার দুটি স্মার্টফোন, একটি রূপার চেইন ও একটি ব্রেসলেট নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, নিহতের দুটি স্মার্টফোন এবং লুণ্ঠিত অলংকার উদ্ধার করেছে পিবিআই।

ঘটনার বিবরণে পিবিআই জানায়, গত সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘৈর এলাকায় খালার বাসা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানজিলা। পরদিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকা থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তানজিলার মা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।