পাবনার বেড়া পৌর এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়া বিবি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেশ কিছুদিন ধরে ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। রোববার পৌরসভার ২ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে ফল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

citytouch 728-X-90

একপর্যায়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম মহল্লার বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে অনেকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তাঁদের সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেড়া মডেল থানার পুলিশের পাশাপাশি সাঁথিয়া ও সুজানগর থানা এবং পাবনা পুলিশ লাইনস থেকে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।

বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার সরকার সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।