লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের অত্যাচারে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকদল নেতা শামীম গাজী। শুক্রবার দুপুরে জেলা শহরের একটি চীনা রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, লুটপাট এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

এসব ঘটনার জন্য উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ ও তার ভাই মেহেদী কবিরাজকে দায়ী করেন শামীম। তিনি রায়পুর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্যসচিব এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে শামীম অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর ফারুক কবিরাজ ‘হাইব্রিড’ নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হন। এরপর তার ভাই মেহেদী কবিরাজের নেতৃত্বে একটি অস্ত্রধারী বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। তারা প্রায় দুই হাজার একর জমি দখল, মাছঘাট দখল, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। মিথ্যা মামলায় এলাকার অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করার অভিযোগও করেন শামীম।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১৩ বছর যেমন রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি, তেমনি সরকার পতনের পরও ফারুক ও তার ভাইয়ের হামলা-ষড়যন্ত্রের কারণে নিরাপদে থাকতে পারছেন না। তার দাবি, তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া এবং মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পাশাপাশি হত্যার হুমকি ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির কথা জানান।

এসব অভিযোগের বিচার চেয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শামীম। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার ফারুকের

অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক কবিরাজ বলেন, একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত লোকজন শামীমের ফার্মেসিতে হামলা চালিয়েছিলেন। এতে তিনি বা তার কোনো লোক জড়িত ছিলেন না। অন্য অভিযোগগুলোর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা-ও তার জানা নেই। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, শামীম গাজীর মাছঘাটসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।