কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশের ডিম। বর্তমানে তাজা ইলিশের ডিম প্রতি কেজি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং নোনা ডিম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই দামেও পর্যাপ্ত ডিম মিলছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইলিশের ডিমের চাহিদা ও সরবরাহ বেশি থাকে। এবার ডিমওয়ালা ইলিশের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইনেও ইলিশের ডিমের বিক্রি ও প্রচার বাড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে।
কুয়াকাটা মা শুটকি এন্টারপ্রাইজের পরিচালক সোহেল মাহমুদ বলেন, নোনা ইলিশের ডিমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও জেলেদের কাছ থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম ডিম পাওয়া যাচ্ছে। ভরা মৌসুমে একটি দোকানেই প্রায় ৮০ কেজি চাহিদা থাকলেও সংগ্রহ করা যাচ্ছে মাত্র ২০-৩০ কেজি।
মহিপুরের আতিক ফিশ পয়েন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হাসনাত আতিক বলেন, আলিপুর-মহিপুর থেকে সংগ্রহ করা ইলিশ কাটার পর ডিম আলাদা করে ৪-৫ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতার পাশাপাশি পর্যটক ও অনলাইন ক্রেতাদের মধ্যেও এর চাহিদা রয়েছে।
তবে ইলিশের ডিমের বাড়তি চাহিদা ও দাম প্রজননক্ষম মা ইলিশ আহরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মৎস্যসংশ্লিষ্টরা। কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ডিম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মা ইলিশ শিকার বেড়ে গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের সংকট তৈরি হতে পারে।
প্রজননক্ষম মা ইলিশের ডিম সংগ্রহ ও বাণিজ্যিক বিক্রি ইলিশের স্বাভাবিক প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগ জোরদারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।










