ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের শুরু। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নাম আসার পর আলোচনায় থাকা এই এমপিকে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি; পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরে ওই কলেজের ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হন। স্নাতক ডিগ্রি শেষ করার পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন মিষ্টি। পরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন; সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। মিরপুরের স্থানীয় রাজনীতিতেও তার সক্রিয়তা ছিল। মিষ্টির স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার। ২০০২ সালের ১০ মে ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজার সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিউটনের মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মিষ্টির ভাই ছিলেন বিএনপির প্রয়াত নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু; ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় এবং ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে তার মৃত্যু হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মিষ্টিকে মনোনয়ন দেয়। পরে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৩ মে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এটিই ছিল তার প্রথম সংসদীয় মেয়াদ; সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংসদের দুটি কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।