কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি হামিদ লতিফ ভূঁইয়া কামাল আদালতে দাবি করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বরং ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন। লতিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আর আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বরুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আমি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে, তখন তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করি। তার সঙ্গে যদি আমার ভালো সম্পর্ক থাকত, তাহলে কেন তার বাসায় যেতাম না।’ লতিফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা এলাকায় শামিম মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে ভাটারা থানার একশ ফুট এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পর কারাগারে থাকা অবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেন, লতিফ ভূঁইয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পিএস ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলন দমনে অর্থায়ন করেছেন। মামলার তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে দুই মামলায় জামিন পেয়েছিলেন লতিফ ভূঁইয়া; তার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগের দাবি, জামিন ঠেকাতেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।