রাজু তালুকদার, মোংলা প্রতিনিধি:

সরকার বদলেছে, সময় গড়িয়েছে, কিন্তু বদলায়নি মানুষের দুর্ভোগ। প্রায় দুই যুগ ধরে একটি জরাজীর্ণ কাঠের সেতুই ছিল বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই সেতু পেরোতে হতো স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষকে। অসুস্থ রোগী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী—সবার জন্যই এই পারাপার ছিল ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার।

এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে পাখিমারা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে কোটি মানুষের স্বপ্নের মতো প্রয়োজনীয় এই অবকাঠামো নয়, বরং সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে ব্যবহার-অনুপযোগী অবস্থায়। নদীর ওপর পাকা সেতু থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। পুরোনো কাঠের সেতু পার হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের।

citytouch 728-X-90

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের মধ্যে এবার কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা মো. মামুন ফকির। নিজ অর্থায়নে জরাজীর্ণ কাঠের সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নতুন সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর এই প্রচেষ্টায় আপাতত চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

তবে কাঠের সেতুর সংস্কারই যে স্থায়ী সমাধান নয়, তা জানেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন করে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করবে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে পাখিমারা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি, অবসান ঘটবে দীর্ঘ দুই দশকের দুর্ভোগের।

এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক সংস্কার নয়, তাঁরা চান নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচলের স্থায়ী ব্যবস্থা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার যেন প্রতিশ্রুতির গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবে চালু হয় সেতুটি।