ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
স্বামীহারা পরমিলা। অনেক আগেই স্বামী মারা গেছেন। ছেলেদের সাথে একই বাড়িতে থাকেন পরমিলা। হঠাৎ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ছেলে লিটন ও তাপস। এই অভিযোগ নিয়ে শনিবার সকালে গিয়েছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের কাছে। এরপর অভিযোগ শুনে নিজ গাড়িতে নিয়ে বাড়িতে দিয়ে আসেন ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। পরমিলা উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মৃত জুগলের স্ত্রী।
জানা গেছে, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে পরমিলার। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে লিটন ও তাপস বাদাম বিক্রেতা। পরমিলাও অন্যের উপর নির্ভর না করে পরের বাড়িতে কাজ করেন। সেখান থেকে যা আয় হয় সেটা দিয়েই নিজের খরচ মেটান। তার কিছু গচ্ছিত টাকা মেয়েদের দেওয়ার কারণে ছেলেদের সাথে কয়েকদিন ধরে মনোমালিন্য হয়। ব্যাংকে গচ্ছিত ২ লক্ষ টাকার মধ্যে অর্ধেক মেয়েদের দিয়েছেন আর অর্ধেক ছেলেদের দিয়েছেন।
বৃদ্ধা পরমিলার দাবি, ছেলেরা তাকে ভুল বুঝিয়ে জমি লিখে নিয়েছে। এজন্য তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাই।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, শনিবার শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে গাড়িতে উঠবো এমন সময় এক বৃদ্ধা কথা বলতে চাইলেন। দেখলাম কান্নাকাটি করছেন। জিজ্ঞেস করতে জানালেন ছেলেরা ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমি বৃদ্ধাকে বললাম, গাড়িতে উঠুন। আপনার বাড়ি যাব। তারপর যেতে যেতে জানতে পারলাম বৃদ্ধার নাম পরমিলা। স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন।
তিনি আরো বলেন, বৃদ্ধা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। ১নং সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের বড় ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তারপর বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছালাম। দুই ছেলের বৌ, স্থানীয়দের সাথে কথা বলে পারিবারিক বিবাদ মিটিয়ে বৃদ্ধাকে তার ঘরে তুলে দিয়ে আসি। এছাড়াও পরবর্তীতে ছেলেরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে ভরণ-পোষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।









