ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার বাইতুল মাহফুজ পুরাবাড়িয়া মোড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জুমার খুতবায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলার অভিযোগে মসজিদ কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার খুতবায় ‘মূর্তি ও ভাস্কর্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং তা থেকে মুসলমানদের উত্তরণ’ বিষয়ে আলোচনা করেন খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের প্রসঙ্গ তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে তাঁর এ বক্তব্য নিয়ে আপত্তি ও সমালোচনা শুরু হলে মসজিদ কমিটি তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, খতিবের দায়িত্ব শুধু নামাজ পড়ানো নয়, সত্য কথা বলাও তাঁর দায়িত্বের অংশ। তাঁর বক্তব্যে কারও আপত্তি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা যেত। এভাবে হঠাৎ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া ঠিক হয়নি।

মসজিদের মুসল্লি কামাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আলেম-ওলামাদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ কারণে তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি ক্ষোভ থাকতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে খতিব এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন। তবে তাঁকে মসজিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করে খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে ওই মন্তব্য করেছিলেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রতিহিংসাবশত তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে খতিবের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ফেরদৌস ভূঁইয়া। তিনি বলেন, মসজিদের খতিব জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় মুসল্লিদের মধ্যে আপত্তি ওঠে এবং এ নিয়ে সমালোচনা হয়। পরে মসজিদ কমিটির সদস্যদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি এককভাবে খতিবকে অব্যাহতি দিয়েছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ময়মনসিংহ জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আলেম-ওলামাদের বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ ছিল। এ কারণে তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে আলোচনার সময় খতিব এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন। তবে এ বক্তব্যের কারণে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া ঠিক হয়নি। মসজিদ কমিটি তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করতে পারত।