স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমনটা নয়। ব্যাংকটি শুধু রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি বা গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন, রিটেইল ব্যবসা থেকে কেন সরে যাচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড? সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এর পেছনে মূলত ব্যাংকটির বৈশ্বিক ব্যবসায়িক কৌশল কাজ করছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড রিটেইলের তুলনায় করপোরেট, প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্পদশালী গ্রাহকদের ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের বাজারেও এর একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। গত ছয় বছরে ব্যাংকটির ভোক্তা, এসএমই ও অন্যান্য রিটেইল ঋণ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে করপোরেট ঋণ বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। ফলে ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির বড় অংশই করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে এসেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এখনও কোনো চূড়ান্ত বিক্রয়চুক্তি হয়নি। ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসা নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছে। তবে মূল্যায়ন, অডিট ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনসহ বিভিন্ন ধাপ পেরোতে হবে।
এর আগে এইচএসবিসিও বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে পরপর দুটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের একই ধরনের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের রিটেইল ব্যাংকিং বাজার কি স্থানীয় ব্যাংকগুলোর দখলে আরও বেশি চলে যাচ্ছে? তবে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এটিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার ঘটনা বলা যাচ্ছে না।










