আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ভুল তথ্য দেওয়া, আয় ও সম্পদের বিবরণ গোপন করা কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে বিপাকে পড়তে পারেন করদাতারা। এসব কারণে অতিরিক্ত কর, জরিমানা ও কর নিরীক্ষার (অডিট) মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়, ব্যয়, সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বিভিন্ন সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো প্রণোদনা পাওয়ার প্রস্তাব নেই। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতে পারে। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এসব বিধান চূড়ান্ত আইন অনুযায়ী কার্যকর হবে।
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত কর কাঠামোয় করের হার পুনর্বিন্যাসের কথাও বলা হয়েছে। এতে করমুক্ত আয়সীমার পরবর্তী প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ করের ধাপ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী করযোগ্য আয়ের বিভিন্ন ধাপে ১০, ১৫, ২০, ২৫ ও ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
রিটার্নে যেসব ভুল বিপদ ডেকে আনতে পারে
অনেক করদাতা আয়কর আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় কম্পিউটার বা ফটোকপির দোকানের সহায়তায় রিটার্ন তৈরি করেন। এতে আয়, সম্পদ কিংবা বিনিয়োগের তথ্যে ভুল থেকে যেতে পারে। বেতন-ভাতার বাইরে বাড়িভাড়া, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া আয় গোপন করা, সম্পদের সঠিক বিবরণ না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই করছাড় দাবি করা রিটার্নের সাধারণ ভুলগুলোর মধ্যে রয়েছে।
রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অসংগতি থাকলে কর কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই বা অডিটের মুখে পড়তে পারেন করদাতা। ভুল তথ্য বা আয় গোপনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত কর, জরিমানা কিংবা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের জটিলতা এড়াতে রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়ের হিসাব, সম্পদের বিবরণ, বিনিয়োগের নথি এবং কর পরিশোধের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।








