ঘাড়ের চারপাশে হঠাৎ কালচে, মোটা ও মখমলের মতো ত্বক এবং তার সঙ্গে ছোট ছোট স্কিন ট্যাগের আধিক্য দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের ত্বকের পরিবর্তনকে অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস (Acanthosis Nigricans) বলা হয়। এটি অনেক সময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অনেকে এটিকে ময়লা বা রোদে পোড়া দাগ ভেবে জোরে ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘষে অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস দূর করা যায় না; বরং ত্বকে জ্বালা বা ক্ষতি হতে পারে।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ক্ষেত্রে শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি যথাযথ সাড়া না দিলে অগ্ন্যাশয় বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে পারে। এই অবস্থার সঙ্গে ঘাড় বা বগলে কালচে ত্বক ও একাধিক স্কিন ট্যাগ দেখা যেতে পারে। তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখেই ডায়াবেটিস হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

citytouch 728-X-90

ডায়াবেটিসের সঙ্গে কী সম্পর্ক?

অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস অনেক ক্ষেত্রে প্রি-ডায়াবেটিস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে, অনেকগুলো স্কিন ট্যাগ থাকলেও চিকিৎসক ডায়াবেটিস পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

নারীদের ক্ষেত্রে অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এর আরও অনেক কারণ রয়েছে কিছু ওষুধ, থাইরয়েড বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।

কী করবেন?

ঘাড়ে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে দাগ তোলার ক্রিম বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তে শর্করা ও অন্যান্য পরীক্ষা করে এর কারণ নির্ণয় করতে পারেন।

শরীরের ওজন স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে ঘাড় কালচে হওয়া বা স্কিন ট্যাগ দেখা দিলেই তা নিশ্চিতভাবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের লক্ষণ এমন নয়। তাই সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।