জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে এক নারীকে হত্যার অভিযোগে মার্কিন এক মেরিন সেনা গ্রেপ্তারের পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের কারফিউ ও মদপানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সেনাদের সব সামরিক কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রেখে শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর বয়সী জাপানি নারী আন্না ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ওই নারীকে হত্যার পর তার মানিব্যাগ ও ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে ব্যালার্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


citytouch 728-X-90

পুলিশ জানিয়েছে, শ্বাসরোধের কারণে ইয়াগির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যালার্ড তার গলায় চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। শনিবার ভোরে নির্ধারিত সময়ের পরও ওই নারী হোটেল থেকে বের না হওয়ায় কর্মীরা তার কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় এবং তদন্ত শুরু করে।

ঘটনার পর প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্যকে অভিযানে নামানো হয়। তদন্তে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজে ওই নারীকে একজন ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।


এই হত্যাকাণ্ডের পর ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ আবারও সামনে এসেছে। দ্বীপটিতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে। অতীতে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ ও অসদাচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের প্রতিটি যোগাযোগ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে বা কমাতে পারে। এই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুই দেশের জোটের শক্তি এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও প্রভাবিত হতে পারে।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি হত্যাকাণ্ডটিকে অত্যন্ত নৃশংস ও জঘন্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পর মার্কিন সেনাদের ওপর আরোপ করা নতুন বিধিনিষেধের লক্ষ্য হলো শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা।