যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। তাঁকে আবারও কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) আইনজীবীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৫০ বছর বয়সী পাইককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসি অঙ্গরাজ্যে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধ ব্যবহার করে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ করা হলেও তাঁর মৃত্যু হয়নি। বরং তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন অচেতন থাকার পর চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার জ্ঞান ফিরে পান পাইক। এরপর তিনি কথা বলতেও শুরু করেন। তাঁর আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানান, জ্ঞান ফেরার পর পাইকের প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনারা কারা?’

citytouch 728-X-90

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় কী ঘটেছিল?

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর পাইককে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর আইনজীবীরা একপর্যায়ে আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাইকের হাত ফুলে গিয়েছিল। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং খাবার বা পানি গিলতেও অসুবিধা হচ্ছিল। এ ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।

তবে কারাগারে ফেরার পর পাইক কী ধরনের চিকিৎসা পাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আইনজীবীদের মতে, তাঁর সুস্থ হয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

কেন মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল ক্রিস্টা পাইকের?

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে নির্যাতন করে হত্যা করেন পাইক। একটি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ শিবিরে তাঁদের সঙ্গে স্লেমারের পরিচয় হয়েছিল।

ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধ সংঘটনের সময় শিপের বয়স আইনগতভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সীমার নিচে থাকায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত প্রথম নারী ছিলেন পাইক। তাঁর আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে সাজা বাতিল বা পরিবর্তনের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ও টেনেসির গভর্নর বিল লি—কেউই তা স্থগিত করেননি।

আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে কি?

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সংশোধন বিভাগ। তবে কর্তৃপক্ষ ব্যবহৃত পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

গত বুধবারের আদালত শুনানিতে টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়রস জানান, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আরেকটি চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

আদালত ব্যর্থ ইনজেকশন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এদিকে, পাইকের আইনজীবীরা তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের কোনো সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি নতুন করে তুলেছেন। তাঁদের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা এবং পরবর্তী গুরুতর শারীরিক জটিলতার পর তাঁর সাজা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।