ভোলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মো. রাকিব ওরফে ‘ইয়াবা রকি’ (৩৬) ও তাঁর সহযোগী মো. মোতাসিম (৪০)। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ ৩৩ হাজার ২৭০ টাকা জব্দ করা হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ভোলা সদর থানাধীন পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পূর্ব কাজিরচর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আলমগীর মিস্ত্রির সুপারি বাগানে এ অভিযান চালানো হয়। ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল আজিজের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারের দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার অন্য পাঁচজন হলেন পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবু জাহেরের ছেলে মো. রুবেল (৩০), বাপ্তা এলাকার কবির হাওলাদারের ছেলে মো. নসু হাওলাদার (৪৫), গুপ্ত মুন্সির আলী আকবরের ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪২), পূর্ব ইলিশার কাঞ্চন চৌকিদারের ছেলে মো. মনির হোসেন (২৭) এবং পশ্চিম ইলিশার আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. মনির (৩১)। রাকিব পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাসেম বাঘার ছেলে। মোতাসিম একই এলাকার মৃত শাহজালাল হকের ছেলে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, রাকিব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাকিব ও তাঁর সহযোগীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। রাকিব গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানান তাঁরা।
ভোলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সময় সাতজনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নগদ ৩৩ হাজার ২৭০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, রাকিব ওরফে ‘ইয়াবা রকি’র বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।









