পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভনে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইফতে খাইরুল আজিম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অন্তত ১০টি পরিবার আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সূত্রাপুর এলাকার কয়েকটি কনফেকশনারি দোকানের মালিক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা নেওয়া হয়। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ কিংবা টাকা ফেরত না দিয়ে অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কথিত এই প্রতারণার ঘটনায় ইফতে খাইরুল আজিম চৌধুরীর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাঁর বাবা, মা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অভিযুক্তের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ থানার পারুলিয়া এলাকায়ও বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তাঁদের ভাষ্য, সেখানে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফারুক আহমেদ দাবি করেন, ইফতে খাইরুল আজিম চৌধুরীর কথায় বিশ্বাস করে তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নিয়ে মোট ৭৬ লাখ ৩৪ হাজার ৭০০ টাকা দেন। বিনিময়ে তাঁকে সিগারেট সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য না পাওয়ার পাশাপাশি টাকাও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
ফারুক আহমেদের ভাষ্য, টাকা লেনদেনের সময় উভয় পক্ষের সম্মতিতে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করা হয়েছিল। এরপরও টাকা ফেরত না দিয়ে অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফারুক আহমেদ বলেন, “আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। মানুষের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে তাঁকে দিয়েছিলাম। এখন সেই টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। তাঁর প্রতারণায় আমি আজ অসহায় হয়ে পড়েছি।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, অর্থ ফেরত ও বিচারের আশায় তাঁরা গেন্ডারিয়া ও সূত্রাপুর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি আদালতেও সিআর মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখনো তাঁরা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ তাঁদের।
তাঁদের আরও অভিযোগ, টাকা ফেরত চাওয়া ও ঘটনার বিষয়ে মুখ খোলার পর তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে ভুক্তভোগীরা জানান, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ে তাঁরা আরও বিপাকে পড়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইফতে খাইরুল আজিম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।









